পূর্বাচলঃ আগামী বাংলাদেশের রাজধানী
ঢাকা আমাদের প্রাণের শহর, কিন্তু ক্রমবর্ধমান জনচাপ আর অপরিকল্পিত নগরায়ন এই শহরকে ক্রমশ বসবাসের জন্য চ্যালেঞ্জিং করে তুলছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) বাস্তবায়ন করছে দেশের বৃহত্তম পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প ‘পূর্বাচল নতুন শহর’।
ত্রিকোণ হোল্ডিংস-এর আজকের ব্লগে আমরা জানবো কেন পূর্বাচল হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের আগামীর আধুনিক রাজধানী।
প্রকল্পের একনজরে রূপরেখা
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পটি প্রায় ৬,২২৭ একর বা ২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এটি ঢাকার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত, যার পশ্চিমে বালু নদী এবং পূর্বে শীতলক্ষ্যা নদী। প্রকল্পটি মোট ৩০টি সেক্টরে বিভক্ত, যেখানে প্রায় ২৬,০০০ আবাসিক প্লট এবং ৬২,০০০ ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কেন পূর্বাচল অনন্য?
পূর্বাচল কেবল একটি আবাসিক এলাকা নয়, এটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ 'স্মার্ট সিটি'। এর বিশেষত্বগুলো হলো:
১. অভাবনীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা: প্রগতি সরণি ও বিমানবন্দর সড়কের সাথে যুক্ত হয়েছে ৮ লেনের অত্যাধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফিট রাস্তা)। কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে মাত্র ১৫-২০ মিনিটেই এখন পূর্বাচলের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছানো সম্ভব। এছাড়া ঢাকা বাইপাস রোড ও ইন্টার-সেক্টর সংযোগ সড়কগুলো যাতায়াতকে করেছে অত্যন্ত সহজ।
২. আইকনিক বঙ্গবন্ধু ট্রাই-টাওয়ার: পূর্বাচলের ১৯ নম্বর সেক্টরে নির্মিত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণ ‘বঙ্গবন্ধু ট্রাই-টাওয়ার’।
লিগ্যাসি টাওয়ার: ১১১ তলা (উচ্চতা ১,৫২৬ ফুট)।
লিবারেশন টাওয়ার: ৭১ তলা।
ল্যাঙ্গুয়েজ টাওয়ার: ৫২ তলা। জাপানি প্রযুক্তি ও আধুনিক স্থাপত্যের এই টাওয়ারগুলো হবে দেশের নতুন ব্যবসায়িক কেন্দ্রবিন্দু।
৩. আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন স্থাপনা: পূর্বাচলে নির্মিত হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্র’ (BBCFEC), যেখানে এখন ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়াও এখানে তৈরি হচ্ছে দেশের বৃহত্তম ‘শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম’, যা এই এলাকার গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
৪. পরিকল্পিত ভূমি বণ্টন: একটি আধুনিক শহরের আদর্শ মানদণ্ড বজায় রেখে পূর্বাচলের ভূমি বণ্টন করা হয়েছে:
৩৮.৬০% আবাসিক এলাকা।
২৫.৯% রাস্তা (যা যাতায়াত সহজ করবে)।
৬.৬% সবুজায়ন ও খোলা জায়গা।
৭.১% লেক ও খাল (জলাবদ্ধতা নিরসনে ও সৌন্দর্যে)।
বাকি অংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং প্রশাসনিক কাজের জন্য নির্ধারিত।
স্মার্ট সিটির সুযোগ-সুবিধা
পূর্বাচলকে একটি পরিবেশবান্ধব স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে এখানে রাখা হচ্ছে:
ভূ-গর্ভস্থ বিদ্যুৎ ও ক্যাবল সংযোগ।
আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট।
সার্বক্ষণিক পানি সরবরাহের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (PPP) বিশাল প্রকল্প।
উন্নত মানের শিক্ষা ও চিকিৎসা জোন।
বিনিয়োগের সেরা সময় এখনই
ঢাকার মূল কেন্দ্র থেকে দূরত্ব ঘুচিয়ে পূর্বাচল এখন জীবনযাত্রার এক নতুন দিগন্ত। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এখানে যে দ্রুত উন্নয়ন হচ্ছে, তাতে বিনিয়োগের জন্য এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
ত্রিকোণ হোল্ডিংস (Trikon Holdings) সবসময় আপনার সুন্দর ও নিরাপদ আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে পাশে আছে। পূর্বাচলের কাছেই এবং বসুধরার বিভিন্ন ব্লকে আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজেক্টগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং এই স্মার্ট সিটিতে আপনার একটি স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করতে আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।