হোম ইন্টেরিয়র ও বাজেট ডেকোর (Interior & Decor)
ড্রয়িং রুম বা বসার ঘরটি মূলত একটি বাড়ির প্রথম ইম্প্রেশন তৈরি করে। গেস্ট ঘরে ঢোকার সাথেই বুঝতে পারেন বাড়ির মানুষের রুচি ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে। তবে অনেকের ধারণা, ড্রয়িং রুমকে সুন্দর ও প্রিমিয়াম লুক দিতে বড় অঙ্কের টাকা খরচ করতে হয়। সত্যি বলতে, নান্দনিকতা সবসময় বড় বাজেটের ওপর নির্ভর করে না; বরং সঠিক পরিকল্পনা ও বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভর করে।
কয়েকটি ছোট পরিবর্তন ও ট্রেন্ডি আইডিয়া কাজে লাগিয়ে আপনি খুব কম খরচে ড্রয়িং রুমের পুরো চেহারাটাই বদলে দিতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৭টি সহজ কৌশল।
১. ইনডোর প্ল্যান্টে আনুন প্রাকৃতিক ও ফ্রেশ লুক
ঘরের মধ্যে প্রাণবন্ত আবহ তৈরি করার সবচেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী উপায় হলো ইনডোর প্ল্যান্ট। ড্রয়িং রুমের কোণায় একটি বড় পাম, মণি প্ল্যান্ট কিংবা স্নেক প্ল্যান্ট রেখে দিন।
টিপস: মাটির বা প্লাস্টিকের সাধারণ টব না রেখে পাটের ঝুড়ি (Jute Baskets) বা মাটির তৈরি নক্সাদার পটারিতে গাছ রাখতে পারেন। এতে একাধারে প্রাকৃতিক সবুজের ছোঁয়া আসবে এবং দেখতেও বেশ এক্সক্লুসিভ লাগবে।
২. সঠিক আলো ও ওয়ার্ম লাইটিংয়ের ব্যবহার
ঘরের পরিবেশের ৫০ শতাংশ নির্ভর করে আপনি কীভাবে আলো ব্যবহার করছেন তার ওপর। শুধু মাথার ওপর একটা সাদা টিউবলাইটের আলো ড্রয়িং রুমকে ফ্ল্যাট ও সাধারণ করে তোলে।
কীভাবে করবেন: টিউবলাইটের বদলে ওয়ার্ম হোয়াইট বা সামান্য হলুদ ছায়ানির্ভর লাইটিং বেছে নিন। সোফার পাশে একটি স্টাইলিশ ফ্লোর ল্যাম্প বা টেবিল ল্যাম্প বসাতে পারেন। লেয়ার্ড লাইটিং ড্রয়িং রুমে নিমেষেই ড্রামাটিক ও লাক্সারিয়াস আমেজ নিয়ে আসে।
৩. কুশন কাভার ও থ্রো পিলোয় কালার পপ
নতুন সোফা কেনা অনেক ব্যয়বহুল, কিন্তু সোফার কুশন কাভার বদলে ফেলা বেশ সাশ্রয়ী। ড্রয়িং রুমকে রিফ্রেশিং দেখাতে উজ্জ্বল রঙের কুশন ব্যবহার করতে পারেন।
স্টাইলিং আইডিয়া: আপনার সোফার রঙ নিউট্রাল হলে তার ওপর ভেলভেট, কটন বা ট্রেডিশনাল মোটিফের কুশন কাভার ব্যবহার করুন। এর সাথে একটি সাধারণ থ্রো ব্ল্যাঙ্কেট সোফার একপাশে আলতো করে ফেলে রাখলে দেখতে একদম ক্যাটালগের মতো প্রিমিয়াম লাগবে।
৪. স্টেটমেন্ট ওয়াল আর্ট বা গ্যালারি ওয়াল
ঘরের একটি দেয়াল খালি না রেখে সেখানে কিছুটা নান্দনিক ছোঁয়া দিন। অনেকগুলো ছোট ছবি বা কয়েক টুকরো ফ্রেম দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন একটি 'গ্যালারি ওয়াল'।
বাজেট ফ্রেন্ডলি ট্রিক: দামি পেইন্টিং কেনার প্রয়োজন নেই। নিজের তোলা সুন্দর কিছু ছবি, টেক্সটাইল আর্ট বা ক্যানভাস প্রিন্ট সস্তায় ফ্রেম করিয়ে নিতে পারেন। বিশাল সাইজের একটি স্টেটমেন্ট আর্টওয়ার্ক সম্পূর্ণ দেয়ালের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে।
৫. আয়নার ব্যবহারে ঘর দেখাবে বড় ও উজ্জ্বল
ছোট ড্রয়িং রুমকে নিমেষেই বড় ও আলো ঝলমলে করে তোলার দারুণ কৌশল হলো আয়না (Mirror) ব্যবহার করা। লাইট সোর্সের বিপরীতে বা সোফার পেছনের দেয়ালে সুন্দর ডিজাইনের একটি আয়না ঝুলিয়ে দিন।
কোন ফ্রেম বেছে নেবেন: মেটাল ফ্রেম, উডেন ফ্রেম বা ভিন্টেজ কাটের আয়না ঘরের নান্দনিকতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এতে আলো প্রতিফলিত হয়ে ঘর অনেক বেশি খোলামেলা ও রুচিশীল মনে হয়।
৬. গালিচা বা রুচিশীল কার্পেটের ছোঁয়া
একটি কার্পেট বা গালিচা ড্রয়িং রুমের পুরো স্পেসকে একটি সূত্রে বেঁধে ফেলে। মেঝের টেক্সচারে পরিবর্তন আনলে পুরো ঘরের ভিজ্যুয়াল চেঞ্জ এসে যায়।
কোনটি বেছে নেবেন: বাজেট কম থাকলে পাটের ম্যাট (Jute Rugs) বা ফ্ল্যাট-ওয়েভ ডোরম্যাট ও স্মল সাইজ কার্পেট দেখতে পারেন। নিউট্রাল শেডের কার্পেট ড্রয়িং রুমে মার্জিত ভাব তৈরি করে।
৭. মিনিমাল ডি-ক্ল্যাটারিং ও ডিআইওয়াই ডেকোর
অনেক সময় অতিরিক্ত আসবাব ও জিনিসপত্রের কারণেই ড্রয়িং রুম দেখতে ঘিঞ্জি লাগে। অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ঘরকে পরিচ্ছন্ন রাখাই হলো প্রিমিয়াম লুকের মূল শর্ত।
অল্প খরচে সাজান: পুরনো কাঠের টুকরো বা বাঁশের ক্যাবিনেট নিজেই পেইন্ট করে রিনোভেট করতে পারেন। সেন্টার টেবিলে অতিরিক্ত জিনিস না রেখে শুধু দুটি বই, একটি সুবাসিত মোমবাতি ও ছোট একটি কাচের ভাসে ফুল রেখে সাজিয়ে তুলুন।
ড্রয়িং রুম সুন্দর করতে লাখ টাকা খরচের প্রয়োজন নেই, দরকার শুধু রুচিশীল নির্বাচন ও সঠিক আয়োজন। কম খরচে এসব ট্রেন্ডি পরিবর্তনগুলো আপনার ড্রয়িং রুমে আনবে রাজকীয় ছোঁয়া, আর মেহমানদের কাছে আপনার রুচির প্রশংসাও কুড়াবে নিশ্চিত।
আপনার স্বপ্নের আবাসনকে নিজের মনের মতো করে সাজিয়ে তুলতে এই সহজ ট্রিকসগুলো আজই প্রয়োগ করে দেখতে পারেন!