বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাঃ কর্পোরেট ব্যস্ততা আর শান্ত জীবনের দারুণ মেলবন্ধন
শহরের কোলাহল আর ইট-কাঠের খাঁচায় বন্দি থাকতে থাকতে আমরা যখন হাঁপিয়ে উঠি, তখন এমন একটা জায়গার খোঁজ করি যেখানে নাগরিক সব সুযোগ-সুবিধাও থাকবে, আবার বুক ভরে একটু শ্বাসও নেওয়া যাবে। ঢাকার বুকেই ঠিক এমন একটা স্বর্গরাজ্য গড়ে উঠেছে, যার নাম বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা। একদিকে কর্পোরেট দুনিয়ার তুমুল ব্যস্ততা, অন্যদিকে এক শান্ত, স্নিগ্ধ জীবনযাত্রা। এই দুইয়ের এমন নিখুঁত ভারসাম্য ঢাকার আর কোথাও মেলা ভার।
চলুন, বসুন্ধরার ভেতরের জীবনটাকে একটু কাছ থেকে দেখে আসি।
সকালের শুরু: কুয়াশাভেজা ট্র্যাক আর পাখির ডাক
বসুন্ধরার সকালটা ঢাকার বাকি ১০টা এলাকার চেয়ে একদম আলাদা। অ্যাপোলো বা এভারকেয়ার হাসপাতালের পেছনের চওড়া রাস্তাগুলো কিংবা ৩ নম্বর ব্লকের ওয়াকিং ট্র্যাকগুলোতে যখন সকালের আলো ফোটে, তখন চারপাশটা এক অদ্ভুত শান্ত রূপ নেয়।
এখানে ভোরবেলা কানে গাড়ির হর্ন আসে না, আসে পাখির কিচিরমিচির। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষরা কানে হেডফোন গুঁজে জগিং করছেন, বয়স্করা দল বেঁধে হাঁটছেন, আর তরুণেরা সাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে পড়েছেন। ঢাকার বুকে এত চওড়া আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ফুটপাত সত্যিই এক বিলাসিতা, যা বসুন্ধরা আপনাকে প্রতিদিন সকালে উপহার দেবে।
দুপুরের চাকা: কর্পোরেট হাবের ব্যস্ত জীবন
সকাল গড়িয়ে দুপুর হতেই বসুন্ধরার রূপ বদলে যায়। গ্রামীণফোন, ওরিয়ন গ্রুপ কিংবা নর্থ সাউথ এবং আইইউবি ইউনিভার্সিটির কল্যাণে পুরো এলাকায় তরতাজা এক তরুণ প্রাণশক্তি আর কর্পোরেট আবহ তৈরি হয়। চওড়া রাস্তাগুলো দিয়ে ঝকঝকে গাড়ি আর রিকশার সারি চলতে থাকে। তবে এত ব্যস্ততার মাঝেও এখানে কিন্তু জটলা বা দমবন্ধ করা ট্রাফিক জ্যামের সেই চিরচেনা রূপটা নেই। এখানকার পরিকল্পিত রাস্তাঘাটের কারণে কর্পোরেট লাইফের যে দৌড়ঝাঁপ, তাও বেশ গুছিয়ে নেওয়া যায়।
বিকেলের আড্ডা: স্পোর্টস কমপ্লেক্স আর সবুজের ছোঁয়া
বিকেলের দিকে বসুন্ধরার আসল কম্যুনিটি ভাইবটা টের পাওয়া যায়। স্পোর্টস লাভারদের জন্য এই এলাকা যেন একটা স্বর্গ। এখানকার বিশ্বমানের স্পোর্টস কমপ্লেক্সগুলোতে তরুণেরা ফুটবল বা ক্রিকেট খেলায় মেতে ওঠে। ইনডোর গেমসেরও দারুণ সব সুবিধা আছে এখানে।
আর যারা একটু নিরিবিলি সময় কাটাতে চান, তারা চলে যান ৩০০ ফিটের কাছাকাছি বা ভেতরের পকেট রোডগুলোতে। চওড়া রাস্তার পাশে সবুজ গাছের ছায়ায় বসে বন্ধুরা মিলে চা খাওয়া কিংবা হুড খোলা রিকশায় চড়ে অলস বিকেল পার করার আনন্দই আলাদা।
সন্ধ্যার জাদু: ক্যাফে কালচার এবং রসনা বিলাস
সূর্য ডোবার পর বসুন্ধরা যেন এক জাদুকরী আলোয় সেজে ওঠে। মেহেন্দী মার্ট বা একদম ভেতরের ব্লকগুলোর দিকে তাকালে বুঝবেন, ঢাকার ফুড কালচারের অন্যতম বড় একটা কেন্দ্র এখন বসুন্ধরা।
ছোট, নান্দনিক কফি শপ থেকে শুরু করে রুফটপ রেস্তোরাঁ, কী নেই এখানে! আপনি যদি বই পড়তে পড়তে এক কাপ গরম কফিতে চুমুক দিতে চান, তার জন্য আছে শান্ত ক্যাফে। আবার বন্ধুদের সাথে লাইভ মিউজিক শুনতে শুনতে বার্গার কিংবা পিৎজা খেতে চাইলে তার অপশনও ভরপুর। এখানকার ক্যাফেগুলোর পরিবেশ এতটাই রিল্যাক্সিং যে, সারাদিনের অফিসের ক্লান্তি এক নিমেষেই কর্পোরেট কর্মীদের মন থেকে ধুয়েমুছে যায়।
কেন বসুন্ধরা অনন্য?
বসুন্ধরা শুধু একটা থাকার জায়গা নয়, এটি একটি লাইফস্টাইল। এখানে আপনি একই সাথে পাচ্ছেন:
নিরাপত্তা ও সুশাসন: সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ।
সবুজের সান্নিধ্য: ঢাকার কংক্রিটের ভিড়ে বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার মতো খোলা জায়গা।
সবকিছু হাতের মুঠোয়: সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সুপারশপ থেকে শুরু করে বিনোদনের সব উপাদান।
ব্যস্ততা আর শান্তির এই যে মেলবন্ধন, এটাই বসুন্ধরাকে ঢাকার অন্য যেকোনো এলাকা থেকে আলাদা করেছে। কর্পোরেট লাইফের ডেডলাইন তাড়া করার পাশাপাশি নিজের মানসিক শান্তি ধরে রাখার জন্য বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জুড়ি নেই।